শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৪

বীর শ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান !!


বীর শ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তদানিন্তন যশোর জেলার (বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা) মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম আব্বাস আলী মন্ডল এবং মায়ের নাম মোসাম্মাৎ কায়সুন্নেসা। ১৯৭০ সালে হামিদুর যোগ দেন সেনাবাহিনীতে সিপাহী পদে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে চাকরীস্থল থেকে নিজ গ্রামে চলে আসেন। বাড়ীতে একদিন থেকে পরদিনই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য চলে যান সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গল থানার ধলই চা বাগানের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ধলই বর্ডার আউটপোস্টে। তিনি ৪নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে হামিদুর রহমান ১ম ইস্টবেঙ্গলের সি কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল করার অভিযানে অংশ নেন। ভোর চারটায় মুক্তিবাহিনী লক্ষ্যস্থলের কাছে পৌছে অবস্থান নেয়। সামনে দু প্লাটুন ও পেছনে এক প্লাটুন সৈন্য অবস্থান নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে শত্রু অভিমুখে। শত্রু অবস্থানের কাছাকাছি এলে একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। মুক্তিবাহিনী সীমান্ত ফাঁড়ির খুব কাছে পৌছে গেলেও ফাঁড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত হতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিবর্ষণের জন্য আর অগ্রসর হতে পারছিলো না। অক্টোবরের ২৮ তারিখে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পাকিস্তান বাহিনীর ৩০এ ফ্রন্টিয়ার রেজিমেন্টের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশ নেয়। মুক্তিবাহিনী পাকিস্তান বাহিনীর মেশিনগান পোস্টে গ্রেনেড হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রেনেড ছোড়ার দায়িত্ব দেয়া হয় হামিদুর রহমানকে। তিনি পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে হেঁটে (ক্রলিং) গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। দুটি গ্রেনেড সফলভাবে মেশিনগান পোস্টে আঘাত হানে, কিন্তু তার পরপরই হামিদুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। সে অবস্থাতেই তিনি মেশিনগান পোস্টে গিয়ে সেখানকার দুই জন পাকিস্তানী সৈন্যের সাথে হাতাহাতি যুদ্ধ শুরু করেন। এভাবে আক্রণের মাধ্যমে হামিদুর রহমান এক সময় মেশিনগান পোস্টকে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম হন। এই সুযোগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল উদ্যমে এগিয়ে যান, এবং শত্রু পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে সীমানা ফাঁড়িটি দখল করতে সমর্থ হন। কিন্তু হামিদুর রহমান বিজয়ের স্বাদ আস্বাদন করতে পারেননি, ফাঁড়ি দখলের পরে মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হামিদুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে। হামিদুর রহমানের মৃতদেহ সীমান্তের অল্প দূরে ভারতীয় ভূখন্ডে ত্রিপুরা রাজ্যের হাতিমেরছড়া গ্রামের স্থানীয় এক পরিবারের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। নীচু স্থানে অবস্থিত কবরটি এক সময় পানির তলায় তলিয়ে যায়। ২০০৭ সালের ২৭শে অক্টোবর বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার হামিদুর রহমানের দেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী ২০০৭ সালের ১০ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ রাইফেলসের একটি দল ত্রিপুরা সীমান্তে হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ গ্রহণ করে, এবং যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে কুমিল্লার বিবিরহাট সীমান্ত দিয়ে শহীদের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। ১১ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদক বীরশ্রেষ্ঠ পদক দেয়া হয় সিপাহী হামিদুর রহমানকে। এছাড়া তাঁর নিজের গ্রাম 'খোর্দ খালিশপুর'-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় হামিদনগর৷

বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ !!


বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
যেভাবে শহীদ হলেন

১৯৭১- এর ৫ সেপ্টেম্বর সুতিপুরে নিজস্ব প্রতিরক্ষার সামনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে নূর মোহাম্মদকে অধিনায়ক করে পাঁচ জনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্ট্যান্ডিং পেট্রোল পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পেট্রোলটি তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা থেকে পাল্টা গুলিবর্ষণ করা হয়। তবু পেট্রোলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। এক সময়ে সিপাহী নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নূর মোহাম্মদ নান্নু মিয়াকে কাঁধে তুলে নেন এবং হাতের এল.এম.জি দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে শত্রুপক্ষ পশ্চাৎপসরণ করতে বাধ্য হয়। হঠাৎ করেই শত্রুর মর্টারের একটি গোলা এসে লাগে তাঁর ডান কাঁধে। ধরাশয়ী হওয়া মাত্র আহত নান্নু মিয়াকে বাঁচানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেন। হাতের এল.এম.জি সিপাহী মোস্তফাকে দিয়ে নান্নু মিয়াকে নিয়ে যেতে বললেন এবং মোস্তফার রাইফেল চেয়ে নিলেন যতক্ষণ না তাঁরা নিরাপদ দূরুত্বে সরে যেতে সক্ষম হন ততক্ষণে ঐ রাইফেল দিয়ে শত্রুসৈন্য ঠেকিয়ে রাখবেন এবং শত্রুর মনোযোগ তাঁর দিকেই কেন্দ্রীভুত করে রাখবেন। অন্য সঙ্গীরা তাদের সাথে অনুরোধ করলেন যাওয়ার জন্যে। কিন্তু তাঁকে বহন করে নিয়ে যেতে গেলে সবাই মারা পড়বে এই আশঙ্কায় তিনি রণক্ষেত্র ত্যাগ করতে রাজি হলেন না। বাকিদের অধিনায়োকোচিত আদেশ দিলেন তাঁকে রেখে চলে যেতে। তাঁকে রেখে সন্তর্পণে সরে যেতে পারলেন বাকিরা। এদিকে সমানে গুলি ছুড়তে লাগলেন রক্তাক্ত নূর মোহাম্মদ। একদিকে পাকিস্তানী সশস্ত্রবাহিনী, সঙ্গে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র, অন্যদিকে মাত্র অর্ধমৃত সৈনিক (ই.পি.আর.) সম্বল একটি রাইফেল ও সীমিত গুলি। এই অসম অবিশ্বাস্য যুদ্ধে তিনি শত্রুপক্ষের এমন ক্ষতিসাধন করেন যে তারা এই মৃত্যুপথযাত্রী যোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে বিকৃত করে চোখ দুটো উপড়ে ফেলে। পরে প্রতিরক্ষার সৈনিকরা এসে পাশের একটি ঝাড় থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে। এই বীরসেনানীকে পরবর্তীতে যশোরের কাশিপুর গ্রামে সমাহিত করা হয়।

বীর শ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল !!


বীর শ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হাবিবুর রহমান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার ছিলেন। শৈশব থেকেই দুঃসাহসী হিসেবে খ্যাত ছিলেন। পড়াশোনা বেশিদূর করতে পারেননি।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
১৯৬৭-র ১৬ ডিসেম্বর বাড়ী থেকে পালিয়ে গিয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক। ১৯৭১-এর প্রথম দিকে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঠানো হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ঘিরে তিনটি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গড়ে তোলে এন্ডারসন খালের পাঁড়ে। আখাউড়ায় অবস্থিত চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট দক্ষিণ দিক থেকে নিরাপত্তার জন্য দরুইন গ্রামের দুই নম্বর প্লাটুনকে নির্দেশ দেয়। সিপাহী মোস্তফা কামাল ছিলেন দুই নম্বর প্লাটুনে। কর্মতৎপরতার জন্য যুদ্ধের সময় মৌখিকভাবে তাঁকে ল্যান্স নায়েকের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়।


যেভাবে শহীদ হলেন>>>>

১৬ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য কুমিল্লা-আখাউড়া রেললাইন ধরে উত্তর দিকে এগুতে থাকে। ১৭ই এপ্রিল পরদিন ভোরবেলা পাকিস্তান সেনাবাহিনী দরুইন গ্রামে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের উপর মর্টার ও আর্টিলারীর গোলাবর্ষণ শুরু করলে মেজর শাফায়াত জামিল ১১ নম্বর প্লাটুনকে দরুইন গ্রামে আগের প্লাটুনের সাথে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেন। ১১ নম্বর প্লাটুন নিয়ে হাবিলদার মুনির দরুইনে পৌছেন। সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল তার নিকট থেকে গুলি নিয়ে নিজ পরিখায় অবস্থান গ্রহণ করেন। বেলা ১১ টার দিকে শুরু হয় শত্রুর গোলাবর্ষণ। সেই সময়ে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। সাড়ে ১১টার দিকে মোগরা বাজার ও গঙ্গা সাগরের শত্রু অবস্থান থেকে গুলি বর্ষিত হয়। ১২ টার দিকে আসে পশ্চিম দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ। প্রতিরক্ষার সৈন্যরা আক্রমণের তীব্রতায় বিহ্বল হয়ে পড়ে। কয়েক জন শহীদ হন। মোস্তফা কামাল মরিয়া হয়ে পাল্টা গুলি চালাতে থাকেন। তাঁর পূর্ব দিকের সৈন্যরা পেছনে সরে নতুন অবস্থানে সরে যেতে থাকে এবং মোস্তফাকে যাবার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু তাদের সবাইকে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগের জন্য মোস্তফা পূর্ণোদ্যমে এল.এম.জি থেকে গুলি চালাতে থাকেন। তাঁর ৭০ গজের মধ্যে শত্রুপক্ষ চলে এলেও তিনি থামেননি। এতে করে শত্রু রা তাঁর সঙ্গীদের পিছু ধাওয়া করতে সাহস পায়নি। এক সময় গুলি শেষ হয়ে গেলে, শত্রুর আঘাতে তিনিও লুটিয়ে পড়েন।

 
 চিত্র>>>বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের স্মৃতিসৌধ।
 পুরস্কার ও সম্মাননা

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদক বীরশ্রেষ্ঠ পদক দেয়া হয় মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে। এছাড়া তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজ প্রাঙ্গণের একটি কোণে ভোলা জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লাইব্রেরি ও জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। এছাড়া মোস্তফা কামালের নামানুসারে গ্রামের নাম মৌটুপীর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে কামালনগর৷

শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০১৪

বীর শ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর !!


বীর শ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ১৯৪৯ সালের ৭ মার্চ বরিশালের বাবুগঞ্জ থানার রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল মোতালেব হাওলাদার। তিনি ১৯৬৪ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন এবং ১৯৬৬ তে আই.এস.সি পাশ করার পর বিমান বাহিনীতে যোগদানের চেষ্টা করেন, কিন্তু চোখের অসুবিধা থাকায় ব্যর্থ হন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায়ই পাকিস্তান সামরিক একাডেমীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৮-র ২ জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ার্স কোরে কমিশন লাভ করেন।
 
১৯৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর পাকিস্তানে ১৭৩ নম্বর ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটেলিয়ানে কর্তব্যরত ছিলেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি ছুটে এসেছিলেন পাকিস্তানের দুর্গম এলাকা অতিক্রম করে। তবে ৩ জুলাই পাকিস্তানে আটকে পড়া আরো তিনজন অফিসারসহ তিনি পালিয়ে যান ও পরে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মেহেদীপুরে মুক্তিবাহিনীর ৭নং সেক্টরে সাব সেক্টর কমান্ডার হিসাবে যোগ দেন। তিনি সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল হকের অধীনে যুদ্ধ করেন। বিভিন্ন রণাঙ্গনে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখানোর কারণে তাঁকে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর দখলের দায়িত্ব দেয়া হয়। শহরটি দখলের জন্য সেক্টর কমান্ডার এ.এন.এম. নূরুজ্জামান তিনটি দল গঠন করেন। প্রথম দলের নেতৃত্ব দেন মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসকে। দ্বিতীয় দলের দায়িত্ব দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা রশীদকে। তৃতীয় দলের দায়িত্ব পান মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর আনুমানিক ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশ্চিমে বারঘরিয়ায় অবস্থান নেন। ১১ ডিসেম্বর সেখানে ভারতীয় বাহিনীর আর্টিলারীর গোলাবর্ষণ করার কথা ছিলো। কিন্তু সেটি হয়নি। পরবর্তী দুইদিন ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর একাধিকবার ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে ব্যার্থ হন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর। পরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় বাহিনীর সহযোগিতা ছাড়াই শত্রুদের অবস্থানে আক্রমন করবেন। এবং তিনি সেটিই করেন। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে বিজয় সুনিশ্চিত করেই তিনি শহীদ হয়েছিলেন।
 
১০ ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর, লেফটেন্যান্ট কাইয়ুম, লেফটেন্যান্ট আউয়াল ও ৫০ জনের মতো মুক্তিযোদ্ধা চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশ্চিমে বারঘরিয়া এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করেন। ১৪ ডিসেম্বর ভোরে মাত্র ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বারঘরিয়া এলাকা থেকে ৩/৪ টি দেশী নৌকায় করে রেহাইচর এলাকা থেকে মহানন্দা নদী অতিক্রম করেন। নদী অতিক্রম করার পর উত্তর দিক থেকে একটি একটি করে প্রত্যেকটি শত্রু অবস্থানের দখল নিয়ে দক্ষিণে এগোতে থাকেন। তিনি এমনভাবে আক্রমণ পরিকল্পনা করেছিলেন যেন উত্তর দিক থেকে শত্রু নিপাত করার সময় দক্ষিণ দিক থেকে শত্রু কোনকিছু আঁচ করতে না পারে। এভাবে এগুতে থাকার সময় জয় যখন প্রায় সুনিশ্চিত তখন ঘটে বিপর্যয়। হঠাৎ বাঁধের উপর থেকে ইস্ট পাকিস্তান সিভিল আর্মড ফোর্সের ৮/১০ জন সৈনিক দৌড়ে চর এলাকায় এসে যোগ দেয়। এরপরই শুরু হয় পাকিস্তান বাহিনীর অবিরাম ধারায় গুলিবর্ষন। ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর জীবনের পরোয়া না করে সামনে এগিয়ে যান। ঠিক সেই সময়ে শত্রুর একটি গুলি এসে বিদ্ধ হয় জাহাঙ্গীরের কপালে। শহীদ হন তিনি।

ছোট সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের মাজার....
 

বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান !!



মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯ আগা সাদেক রোডের পৈত্রিক বাড়ি "মোবারক লজ"-এ জন্মগ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
১৯৭১ সালের শুরুতে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে মতিউর সপরিবারে দুই মাসের ছুটিতে আসেন ঢাকা৷ ২৫ মার্চের কালরাতে মতিউর ছিলেন রায়পুরের রামনগর গ্রামে ৷ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হয়েও অসীম ঝুঁকি ও সাহসিকতার সাথে ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খুললেন ৷ যুদ্ধ করতে আসা বাঙালি যুবকদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকলেন ৷ মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে গড়ে তুললেন একটি প্রতিরোধ বাহিনী ৷ ১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বিমান বাহিনী 'সেভর জেড' বিমান থেকে তাঁদের ঘাঁটির উপর বোমাবর্ষণ করে ৷ মতিউর রহমান পূর্বেই এটি আশঙ্কা করেছিলেন ৷ তাই ঘাঁটি পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পান তিনি ও তাঁর বাহিনী ৷ এরপর ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকা আসেন ও ৯ মে সপরিবারে করাচি ফিরে যান ৷ ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট শুক্রবার ফ্লাইট শিডিউল অনুযায়ী মিনহাজের উড্ডয়নের দিন ছিলো ৷ মতিউর পূর্ব পরিকল্পনা মতো অফিসে এসে শিডিউল টাইমে গাড়ি নিয়ে চলে যান রানওয়ের পূর্ব পাশে ৷ সামনে পিছনে দুই সিটের প্রশিক্ষণ বিমান টি-৩৩ । রশিদ মিনহাজ বিমানের সামনের সিটে বসে স্টার্ট দিয়ে এগিয়ে নিয়ে আসতেই তাঁকে অজ্ঞান করে ফেলে বিমানের পেছনের সিটে লাফিয়ে উঠে বসলেন৷ কিন্তু জ্ঞান হারাবার আগে মিনহাজ বলে ফেললেন, তিনিসহ বিমানটি হাইজ্যাকড হয়েছে । ছোট পাহাড়ের আড়ালে থাকায় কেউ দেখতে না পেলেও কন্ট্রোল টাওয়ার শুনতে পেল তা ৷ বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতিউর বিমান নিয়ে ছুটে চললেন৷ রাডারকে ফাঁকি দেবার জন্য নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে অনেক নিচ দিয়ে বিমান চালাচ্ছিলেন তিনি ৷
 
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান যেভাবে শহীদ হলেন>>>
২৫ মার্চের ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হন। পরে তিনি দৌলতকান্দিতে জনসভা করেন এবং বিরাট মিছিল নিয়ে ভৈরব বাজারে যান। পাক-সৈন্যরা ভৈরব আক্রমণ করলে বেঙ্গল রেজিমেন্টে ই,পি,আর-এর সঙ্গে থেকে প্রতিরোধ বুহ্য তৈরি করেন। এর পরই কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে জঙ্গি বিমান দখল এবং সেটা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২০ই আগস্ট সকালে করাচির মৌরিপুর বিমান ঘাঁটিতে তারই এক ছাত্র রশীদ মিনহাজের কাছ থেকে একটি জঙ্গি বিমান ছিনতাই করেন। কিন্তু রশীদ এ ঘটনা কন্ট্রোল টাওয়ারে জানিয়ে দিলে, অপর চারটি জঙ্গি বিমান মতিউরের বিমানকে ধাওয়া করে। এ সময় রশীদের সাথে মতিউরের ধ্বস্তাধস্তি চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রশীদ ইজেক্ট সুইচ চাপলে মতিউর বিমান থেকে ছিটকে পড়েন এবং বিমান উড্ডয়নের উচ্চতা কম থাকায় রশীদ সহ বিমানটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মতিউরের সাথে প্যারাসুট না থাকাতে তিনি নিহত হন। তাঁর মৃতদেহ ঘটনাস্থল হতে প্রায় আধ মাইল দূরে পাওয়া যায়। রশীদকে পাকিস্তান সরকার সম্মানসূচক খেতাব দান করে। প্রসঙ্গতঃ একই ঘটনায় দুই বিপরীত ভূমিকার জন্য দুইজনকে তাদের দেশের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক খেতাব প্রদানের এমন ঘটনা বিরল। মতিউরকে করাচির মাসরুর বেসের চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

২০০৬ সালের ২৩ জুন মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান হতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁকে পূর্ণ মর্যাদায় ২৫শে জুন শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয় ।
  
 
 

বীর শ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন !!


মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানার বাঘচাপড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে পাকিস্তান নৌ-বাহিনীতে যোগদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা>>>
৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী যশোর সেনানিবাস দখলের পর 'পদ্মা', 'পলাশ' এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর একটি গানবোট 'পানভেল' খুলনার মংলা বন্দরে পাকিস্তানি নৌ-ঘাটিঁ পি.এন.এস. তিতুমীর দখলের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ-এ প্রবেশ করে। ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে গানবোটগুলো খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে এলে অনেক উচুঁতে তিনটি জঙ্গি বিমানকে উড়তে দেখা যায়। শত্রুর বিমান অনুধাবন করে পদ্মা ও পলাশ থেকে গুলি করার অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু অভিযানের সর্বাধিনায়ক ক্যাপ্টেন মনেন্দ্রনাথ ভারতীয় বিমান মনে করে গুলিবর্ষণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এর কিছুক্ষণ পরে বিমানগুলো অপ্রত্যাশিত ভাবে নিচে নেমে আসে এবং আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করে। প্রথম গোলা এসে পড়ে 'পদ্মা'য় এবং পরবর্তীতে 'পলাশে'। গোলা সরাসরি 'পদ্মা' এর ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে ইঞ্জিন বিধ্বস্ত করে। হতাহত হয় অনেক নাবিক। 'পদ্মা'-র পরিণতিতে পলাশের অধিনায়ক লে. কমান্ডার রায় চৌধুরী নাবিকদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেন। রুহুল আমিন এই আদেশে ক্ষিপ্ত হন। তিনি উপস্থিত সবাইকে যুদ্ধ বন্ধ না করার আহ্বান করেন। কামানের ক্রুদের বিমানের দিকে গুলি ছুড়ঁতে বলে ইঞ্জিন রুমে ফিরে আসেন। কিন্তু অধিনায়কের আদেশ অমান্য করে বিমানগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। বিমানগুলো উপূর্যপুরি বোমাবর্ষণ করে পলাশের ইঞ্জিনরুম ধ্বংস করে দেয়। আহত হন তিনি। কিন্তু অসীম সাহসী রুহুল আমিন তারপর-ও চেষ্টা চালিয়ে যান পলাশ কে বাঁচানোর। তবে ইঞ্জিন বিকল হয়ে আগুণ ধরে যায় এবং গোলার আঘাতে রুহুল আমিনের ডান হাতটি সম্পূর্ণ উড়ে যায়। অবশেষে পলাশের ধ্বংশাবশেষ পিছে ফেলেই আহত রুহুল আমিন ঝাঁপিয়ে পড়েন রূপসা-এ। প্রাণশক্তি-তে ভরপুর এ যোদ্ধা একসময় পাড়ে-ও এসে পৌছান। কিন্তু ততক্ষণে সেখানে ঘৃণ্য রাজাকারের দল অপেক্ষা করছে তার জন্য। আহত এই বীর সন্তান কে তারা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে রূপসা-র পাড়ে-ই। তাঁর বিকৃত মৃতদেহ বেশকিছুদিন সেখানে পড়ে ছিলো অযত্নে, অবহেলায়। তিনি শহীদ হলেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনসাধারণ বাগমারা গ্রামে রূপসা নদীর পাড়ে তাঁকে দাফন করে এবং সেখান একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করা হয়।

 
ডিসেম্বর ১০, ১৯৭১ তারিখে বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন শাহাদত বরন করেন এবং এই তার সমাধি। আমার পক্ষ থেকে তাকে জানাই স্যালুট।
আর আপনারা............................?

কবি শামসুর রাহমান !!


শামসুর রাহমান (জন্মঃ অক্টোবর ২৩, ১৯২৯, মাহুতটুলি, ঢাকা - মৃত্যুঃ আগস্ট ১৭, ২০০৬ ) বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ভাগে দুই বাংলায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও জনপ্রিয়তা প্রতিষ্ঠিত। তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তাঁর দুটি কবিতা খুবই জনপ্রিয়।

বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০১৪

শনিবার, ১২ জুলাই, ২০১৪

এর থেকে নির্মম দৃশ্য আগে কেউ দেখেছেন কি ??

 
ইসরাইলী সেনাদের ছোড়া বুলেটে সন্তান সম্ভাবা এক ফিলিস্তিনি নারীর পেট ঝাঝড়া হয়ে যায়। সাথে সাথে বাচ্চা টি অন্তত বাঁচবে বলে তার সিজার করা হয় হাসপাতালে। কিন্তু সিজার করার পর দেখা যায় এই করুন দৃশ্যটি। বাচ্চাটির বুক এফোঁড় ওফোঁড় করে বের হয়ে গেছে ইসরাইলী সেনার বুলেট। কি অপরাধ ছিল এই ছোট্ট শিশুটির, কি অপরাধ ছিল এই সন্তান সম্ভবা মায়ের?? কোথায় আছে জাতি সংঘ?? আর কত লাশ পড়লে ফিলিস্তিনের সাহায্যে এগিয়ে আসবে বিশ্ববাসী??

শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০১৪

লিউকেমিয়া





লিউকেমিয়া এক ধরণের ক্যান্সার জাতীয় স্বাস্থ্য সমস্যা। লিউকেমিয়া বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। কিছু কিছু লিউকেমিয়া সাধারণত শিশুদের মধ্যে এবং কিছু কিছু বড়দের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। অন্যভাবে এই রোগকে আমরা বলতে পারি ব্লাড ক্যান্সার।

কে পাবে এবার সোনার বুট ???

বিশ্বকাপ শুরুর প্রথম দিকে মেসি, নেইমার, রোনাল্ডো এদের নামই ছিল মানুষের মুখে মুখে । অনেকেরই ধারনা ছিল এ তিনজনের মধ্যেই কেউ একজন গেল্ডেন বুট এর অধিকারী হবেন । কিন্তু গ্রুপ পর্বতেই বিদায় নেন রোনাল্ডো এবং নেইমার ছিটকে পড়েন ইনজুরির কারনে । এখন আলোচনায় স্থান পেয়েছে মেসি, মুলার এবং রোদ্রিগেজ । এদের মধ্যে রোদ্রিগেজ আছেন সবার শীর্ষ স্থানে । তার গোল সংখ্যা ৬ । ২য় স্থানে আছেন মুলার, গোল সংখ্যা ৫ এবং তৃতীয় স্থানে আছেন লিওনেল মেসি, তার গোল সংখ্যা ৪ । অধিকাংশ ফুটবল প্রেমী বাংলাদেশীরা আশা করছেন ফাইনালে লিওনেল মেসি তার ক্ষমতা দেখেয়ে সবার চোখের সামনে থেকে গেল্ডেন বুট ছিনিয়ে নিবেন । বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে মেসির দিকে ফাইনালে মেসি কি জাদুকরী ক্ষমতা দেখায়........................

শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪

আত্মঘাতী গোল হওয়ায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এই খেলোয়াড়কে!


ফুটবল খেলায় ভুলের জন্য কোনো খেলোয়াড়কে তিরস্কার করা যায়, গালি দেওয়া যায়, কিন্তু কাউকে খুন করে ফেলা যায়—বিশ্ব সেবারই তা প্রথম জেনেছিল। গত ২ জুলাই ২০১৪, সেই নজিরবিহীন ঘটনার ২০ বছর পূর্ণ হলো।

শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০১৪

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ফুটবলার হওয়ার পথে মেসি !!!


এবারের বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত করেছেন চার গোল। চার গোল করা বড় কথা নয়, কিন্তু গোলগুলোর ধরন কিন্তু তাঁকে নিয়ে যায় অন্য উচ্চতাতেই। চারটির মধ্যে তিনটি গোলই মেসি করেছেন ডি-বক্সের বাইরে থেকে। বসনিয়ার বিপক্ষে চারজনকে কাটিয়ে জয়সূচক গোল, ইরানের বিপক্ষে সামনে দাঁড়ানো ইরানের নয়জন রক্ষণসেনাকে তোয়াক্কা না করে বক্সের বাইরে থেকে গোল, আর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ফ্রি কিক থেকে পাওয়া গোলকে মহাকাব্যিক বললেও ভুল হবে না। এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার করা ছয় গোলের চারটিই এসেছে মেসির জাদুকরি পা থেকে। সর্বকালের সেরাদের জন্ম তো হয় এভাবেই।
বয়স মাত্র ২৭। এই বয়সেই ফুটবলে সম্ভব প্রায় সব অর্জনেই নিজের নাম লিখে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর যেখানেই হাত দিয়েছেন, সোনা ফলিয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপটাই যে এখনো হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখা হয়নি তাঁর। একমাত্র অপূর্ণতা ঘোচাতে এবার বেশ আদা-জল খেয়েই লেগেছেন তিনি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন একাই। ফুটবল-বোদ্ধাদের তাই ধারণা, সর্বকালের সেরা হওয়ার দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই আছেন এই তারকা।

মেসি সম্পর্কে নাইজেরীয় কোচের মন্তব্য কিন্তু এখানে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই আর্জেন্টিনা দলে অসাধারণ সব খেলোয়াড় আছে। কিন্তু তারা আর দশজনের মতো সাধারণ মানুষ। লিওনেল মেসি তো অন্যগ্রহের ফুটবলার।’

নেইমারের অন্তর্বাস প্রদর্শনের তদন্তে নেমেছে ফিফা !!!


ফিফার নিয়মানুযায়ী খেলোয়াড়দের অর্ন্তবাস প্রদর্শনের কোনো নিয়ম বা বৈধতা নেই। সোমবারের ক্যামেরুনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে জার্সি খুলে ফেলে ব্রাজিল তারকা নেইমার। আর সেময় তার অর্ন্তবাসের কিছু অংশ দেখা যায়।

ফিফার অনুমতি ছাড়া কোনো কিছু দেখানোর এখতিয়ার নেই খেলোয়াড়দের। সুয়ারেজের কামড়ের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আন্ডারওয়ার (অন্তর্বাস) প্রদর্শন করায় নেইমারে বিষয়ে তদন্তে নেমেছে ফিফা।

ফিফা বিশ্বকাপ-২০১৪ নিয়মানুযায়ী যে কোনো আন্ডারগার্মেন্টন্সের জন্য পৃষ্ঠপোষক দরকার হয়। অননুমোদিত আন্ডারওয়ার যদি খেলোয়াড়দের জন্য ভাগ্য বয়ে আনে, তবুও তাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচানা করে এটা পরা যাবে না।

ক্যামেরুনের বিপক্ষে জয়ের পর নেইমার তার জার্সি খুলে ফেলা। এরপর তার আন্ডারওয়ার কিছুটা প্রদর্শিত হয়।

টুইটারের পাওয়া নেইমারের একটি ছবিতে দেখা যায়, খেলার হাফটাইমে তার আন্ডারপ্যান্ট পরিবর্তন করেছে, যা দেখতে অনেকটা ব্রাজিলের পতাকার মতো।

কিছু কিছু ভক্ত টুইটারের মাধ্যমে এটা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। ফিফাই এ বিষয়টা তদন্তের আওতায় আনবে, সম্ভব হলে নেইমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে ইয়াহু নিউজ জানিয়েছে।

বুধবার, ২৫ জুন, ২০১৪

মানুষ মানুষের জন্য !!

শুধুমাত্র ঢাকায় অবস্থিত বন্ধুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি!!

একজন মূমূর্ষু রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন, রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ। ৬-৭ ব্যাগ রক্ত লাগবে।
রোগী ধানমন্ডি শংকর ইবনে সিনা হসপিটালে ভর্তি।

কেউ ইচ্ছুক থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৪৫৯৫৫৬৪৯ (হিরন)

দয়া করে সবাই পোষ্টটি শেয়ার করুন। আপনার একটি শেয়ার হতে পারে এক ব্যাগ রক্তের যোগান।

সোমবার, ২৩ জুন, ২০১৪

শনিবার, ২১ জুন, ২০১৪

Argentina win another match!!!

Lionel Messi, he has just scored a majestic injury-time winner to shatter Iran's fairytale. This one is certainly his goal. He received a pass from Zabaleta 25 yards out, to the right of centre, and teased the weary Ghoochannejhad before shifting the ball to the left and blasting a glorious curling shot into the far corner.

বাংলার বাঘ!!


 ১৫ জুনের ঘটনায় স্ত্রী শিশিরকে উত্ত্যক্তকারীদের পিটিয়ে বর্তমান আলোচনায় রয়েছেন সাকিব আল হাসান৷ নিজের দেশে ভারতের বিপক্ষে খেলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল৷ তবে খেলা ছাপিয়ে সবাই সেদিন সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন৷ কারণটা হচ্ছে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালে গ্যালারিতে থাকা সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরকে উত্ত্যক্ত করেছিল কয়েক বখাটে৷ আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাকিব নিজেই পিটিয়েছেন বখাটেদের৷

এই নিয়ে মিডিয়া জগতে শুরু হয়েছে তুলকালাম কান্ড। কেউ বা ইতিবাচক ভাবে দেখছেন আবার কেউ নেতিবাচক!!

কিন্তু আমার মতে সাকিব তার সঠিক কাজটিই করেছেন। বাংলার বাঘ তার সত্যিকারের রুপ দেখিয়েছে। নিজের বউকে উত্যক্ত করবে আর সাকিব তা চেয়ে চেয়ে দেখবে তা কখনো হতে পারেনা ।

আপনারা কি বলেন???

শুক্রবার, ২০ জুন, ২০১৪

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলটিকে নিয়ন্ত্রণ করে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ১৯২৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা’র সদস্য হয়। এর পূর্বেই ১৯১৬ সাল থেকে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবলের অন্যতম সদস্য দেশ। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফলতম দলটি হচ্ছে ব্রাজিল। এ পর্যন্ত দলটি পাঁচবার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২) বিশ্বকাপ জয় করেছে যা একটি রেকর্ড। ফুটবলের ব্যাপারে একটি সাধারণ উক্তি হচ্ছে: ‘The English invented it, the Brazilians perfected it.’, অর্থাৎ, ‘ইংল্যান্ডের আবিষ্কার, আর ব্রাজিলের পরিপূর্ণতা দান’। এছাড়া এলো’র রেটিং অনুসারে ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর ফুটবল জাতি। এখন পর্যন্ত ব্রাজিল-ই একমাত্র দল যারা বিশ্বকাপের সবগুলো আসরেই অংশগ্রহণ করেছে।

সোমবার, ১৬ জুন, ২০১৪

শনিবার, ১৪ জুন, ২০১৪

শুক্রবার, ১৩ জুন, ২০১৪

উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাজিল

ব্রাজিলের জন্য ম্যাচের শুরুটা বোধহয় এর চেয়ে ভীতিকর হতে পারত না। বিশ্বকাপ ইতিহাসেই যাদের নিজেদের জালে বল পাঠানোর কোন রেকর্ড ছিল না, এবার আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়েই শুরু তাদের বিশ্বকাপ।
যার কাছে গোল করে বিশ্বকাপ শুরুর প্রত্যাশা ছিল, সেই নেইমার ক্রোয়েশিয়ার ‘নাম্বার টেন’ লুকা মডরিচকে ফাউল করে দেখলেন ঘরের মাঠের বিশ্বকাপের প্রথম হলুদ কার্ডও।
এমন শুরুর জড়তায় স্তব্ধ করিন্থিয়ান্স স্টেডিয়ামে অবশ্য প্রাণ ফিরিয়েছে সেই নেইমার ম্যাজিকই।
কম যাননি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের ত্রিফলার অন্যতম অস্কারও।

কিন্তু জাপানি রেফারির দেওয়া পেনাল্টি বিতর্কের সৃষ্টি করে জনমনে!!!

ফিফা কি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বিশ্বকাপ এবার ব্রাজিল এর ঘরেই যাবে?? যদি তা না হয় তবে এই সিদ্ধান্তের একটা সুরাহা না করলে তা পুরা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৪ আসরকে কলঙ্কিত করে রাখবে ফিফাকে!!!

বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ২০১৪

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধন
এ্যারেনা ডি সাওপাওলোয় ছয়শজনের বেশি নৃত্যশিল্পী অনুষ্ঠানের শুরুতেই, তাদের নাচের মাধ্যমে ব্রাজিলের প্রকৃতি, মানুষ আর ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসা তুলে ধরে।
তাদের পরণে ছিল গাছ, ফুল আর ফুটবলের মতো পোশাক। এরপর ক্লডিয়া লেট্টি, জেনিফার লোপেজ আর র‍্যাপার পিটবুলের গাওয়া, এবারের বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সংগীত উই আর ওয়ান বা আমরা সবাই এক গান দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হয়।
ব্রাজিল সময় বিকেলে শুরু হওয়া প্রায় দেড়ঘন্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠান সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন মাঠের ৬৫ হাজার আর পৃথিবীর কোটি কোটি দর্শক।

মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০১৪

জেনে নিই বিশ্বকাপে কোন দল কোন গ্রুপে খেলবে!!!

গ্রুপ ‘এ’ : ব্রাজিল, ক্রোয়েশিয়া, মেক্সিকো ও ক্যামেরুন।
গ্রুপ ‘বি’ : স্পেন, নেদারল্যান্ডস, চিলি ও অস্ট্রেলিয়া।
গ্রুপ ‘সি’ : কলম্বিয়া, গ্রিস, আইভরি কোস্ট ও জাপান।
গ্রুপ ‘ডি’ : উরুগুয়ে, কোস্টারিকা, ইংল্যান্ড ও ইতালি।
গ্রুপ ‘ই’ : সুইজারল্যান্ড, ইকুয়েডর, ফ্রান্স ও হন্ডুরাস।
গ্রুপ ‘এফ’ : আর্জেন্টিনা, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, ইরান ও নাইজেরিয়া।
গ্রুপ ‘জি’ : জার্মানি, পর্তুগাল, ঘানা ও যুক্তরাষ্ট্র।
গ্রুপ ‘এইচ’ : বেলজিয়াম, আলজেরিয়া, রাশিয়া ও দণি কোরিয়া।

সোমবার, ৯ জুন, ২০১৪

এদুয়ার্দো ডি সিলভা





ডিয়েগো কস্তাকে নিয়ে ব্রাজিল-স্পেনের রশি টানাটানির খবর কারোরই অজানা নেই। জন্মসূত্রে ব্রাজিলিয়ান হলেও কস্তা বিশ্বকাপ খেলতে আসবেন স্পেনের হয়েই। বিশ্বকাপে তাঁকে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে দেখা যাবে কি না, তা অবশ্য এখনো নিশ্চিত না। কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচেই আরেক ‘বিভীষণের’ মুখোমুখি হতে হবে ব্রাজিলকে।

তাঁর নাম এদুয়ার্দো ডি সিলভা।  জন্ম ব্রাজিলে হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে সিলভা মাঠে নামবেন নিজ দেশের প্রতিপক্ষ হয়ে। শুধু মাঠে নামাই না, ৩১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার হয়ে উঠতে পারেন ব্রাজিলের প্রধান হুমকিও।

ক্রোয়েশিয়ার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সিলভার নামটা আছে দ্বিতীয় স্থানে। ২০০৪ সালে অভিষেকের পর ৬৯ ম্যাচ খেলে ২৯টি গোল করেছেন সিলভা। সামনে আছেন শুধু ডেভর সুকার। যাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলেছিল ক্রোয়েশিয়া।

১৯৮৩ সালে রিও ডি জেনিরোর এক বস্তিতে জন্ম হয়েছিল সিলভার। খুব ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ফুটবলপাগল। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি নজর কাড়েন ক্রোয়েশিয়ার ক্লাব ডায়নামো জাগরেবের। ১৯৯৯ সালে পাড়ি জমান ক্রোয়েশিয়ায়। দুই বছর পরই খেলতে শুরু করেন ডায়নামোর মূল দলের হয়ে। ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ১০৮টি ম্যাচ খেলে করেছেন ৭৩ গোল। খেলেছেন ইংল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব আর্সেনালের হয়েও। ২০১০ সাল থেকে খেলছেন ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেেস্কর হয়ে।

ক্লাব ফুটবলে সুনাম কুড়ালেও বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনো উঠতে পারেননি সিলভা। ২০০৬ সালে সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু বয়স কম বলে তাঁর ওপর আস্থা রাখতে পারেননি ক্রোয়েশিয়ার তত্কালীন কোচ। ২০১০ সালে তো বাছাইপর্বের বাধাই পেরোতে পারেনি ক্রোটরা। অবশেষে মাতৃভূমি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে সিলভার।

ঘরের ছেলের বিশ্বকাপ অভিযান নিয়ে সাজসাজ রব পড়ে গেছে ব্রাজিলের ভিলা কেনেডি অঞ্চলে। ছোটবেলাটা এখানেই কাটিয়েছেন সিলভা। তাঁর সৌজন্যে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে অনেককেই হয়তো দেখা যাবে ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে গলা ফাটাতে। কিন্তু সেটা শুধু ওই একটা ম্যাচের জন্যই। সিলভার মা জোয়েলমা ডি সিলভা বলেছেন, ‘এখানে, পরিবারের সবাই এদুয়ার্দো ডি সিলভাকে সমর্থন করবে। কিন্তু প্রথম ম্যাচের পর সবাই আবার ব্রাজিলের সমর্থক হয়ে যাবে।’

কে জানে, এদুয়ার্দো নিজেও হয়তো উদ্বোধনী ম্যাচের পর মনে মনে ব্রাজিলের জয়ই কামনা করবেন। তাঁর ভাই ব্রুনোর মন্তব্য শুনে তো তেমনটাই মনে হচ্ছে, ‘সিলভা কাজ করছে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে। কিন্তু মনেপ্রাণে সে তো একজন ব্রাজিলিয়ানই।’

রবিবার, ৮ জুন, ২০১৪

Neymar


নেইমার দা সিল্ভা স্যান্তোস জুনিয়র
তিনি সাধারণত নেইমার নামে পরিচিত। তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ তারিখে জন্মগ্রহন করেন। তিনি একজন ব্রাজিলীয় পেশাদার ফুটবলার, যিনি স্পেনীয় ক্লাব বার্সেলোনা এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে একজন ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। তিনি আধুনিক বিশ্বের উদীয়মান ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম।

২০১০ সালে ৩য় হওয়ার পর নেইমার ১৯ বছর বয়সে ২০১১ এবং ২০১২ সালে দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে নেইমার ফিফা ব্যালন ডি'অরের জন্য মনোনয়ন পান, তবে ১০ম স্থানে আসেন। তিনি ফিফা পুস্কাস পুরষ্কারও অর্জন করেন। তিনি সর্বাধিক পরিচিত তাঁর ত্বরণ, গতি, বল কাটানো, সম্পূর্ণতা এবং উভয় পায়ের ক্ষমতার জন্য। তাঁর খেলার ধরন তাকে এনে দিয়েছে সমালোচকদের প্রশংসা, সাথে প্রচুর ভক্ত, মিডিয়া এবং সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেলের সঙ্গে তুলনা। পেলে নেইমার সম্পর্কে বলেন, "একজন অসাধারন খেলোয়ার।" অন্যদিকে রোনালদিনহো বলেন, "নেইমার হবে বিশ্বসেরা।"

নেইমার সান্তসে (ব্রাজিলিয়ান ক্লাব) যোগ দেন ২০০৩-এ। বিভিন্ন মর্যাদাক্রম অতিক্রম করে তিনি মূলদলে নিজের যায়গা করে নেন। তিনি সান্তসের হয়ে প্রথম আবির্ভাব করেন ২০০৯ সালে। ২০০৯ সালে তিনি কম্পেনাতো পুলিস্তার শ্রেষ্ঠ যুবা খেলোয়ার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সান্তসের ২০১০ কম্পেনাতো পুলিস্তা জয়, নেইমারের শ্রেষ্ঠ খেলোয়ার নির্বাচিত হওয়া এবং ২০১০ কোপা দো ব্রাজিলে ১১ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা পুরষ্কার পান। তিনি ২০১০ সাল শেষ করেন ৬০ খেলায় ৪২ গোল করার মাধ্যমে।

নেইমার ব্রাজিল অনূর্ধ্ব ১৭, অনূর্ধ্ব ২০ এবং ব্রাজিল মূল দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

সোমবার, ২ জুন, ২০১৪

বিশ্বকাপে নেইমাররা বাংলাদেশে তৈরি জার্সি পরবেন!

 

প্রতিবারের মতো এবারো বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে বিশ্বকাপকে ঘিরে উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে৷ ব্লগ আর ফেসবুকেও সেই ছোঁয়া লেগেছে৷  

১২ জুন শুরু হয়ে ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে বিশ্বকাপ৷ এবার কার হাতে ট্রফি উঠবে তাই নিয়ে চলছে যুক্তি, পালটা যুক্তির খেলা৷

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জার্সিতে নাকি এবার ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা থাকবে৷ এই তথ্যের ব্যাপারে কোনো সূত্রের উল্লেখ না করে বলা হয় ব্রাজিল বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলটির জার্সি তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিল বাংলাদেশ৷ এরপর রানা প্লাজা ও তাজরিন গার্মেন্টসের ট্রাজেডিতে সহস্রাধিক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে জার্সির নিচে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লিখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ফুটবল সংস্থা ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ) ৷ এরকম একটি সংবাদ গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশ করেছিল ইংরেজি দৈনিক সান এ৷ সেখানে বিজিএমইএ’র সূত্র উল্লেখ করে জানানো হয়, জার্সির পাশাপাশি সমর্থকদের জন্য টি-শার্ট, ট্রাউজার, ক্যাপ ইত্যাদিরও অর্ডার এসেছে ব্রাজিল থেকে৷

ফিফা ব়্যাংকিং-এ ব্রাজিল বাইশ!


ফুটবলের স্বর্গরাজ্য ব্রাজিল, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, তারা এখন ফিফার ব়্যংকিং-এ বাইশতম স্থানে৷ আরো খোলসা করে বলতে গেলে, ঘানা আর মালির ঠিক মাঝামাঝি৷ হায় রে ফুটবল, হায় রে ব্রাজিল৷ দোষটা ফিফার ব়্যাংকিং-এর নয়, কেননা তার নিয়মকানুন বাঁধা৷ ব্রাজিলের জাতীয় দল তাদের বিগত ছ'টা খেলার মধ্যে চারটেতে ড্র করেছে৷ তার ওপর আবার কোনো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও সম্প্রতি সংঘটিত হয়নি৷ খেলা ছাড়া এবং খেলার ফলাফল ছাড়া ফিফার বাছাইয়ের তালিকা তৈরি করা সম্ভব নয়৷ কাজেই যে ব্রাজিল সাধারণত ফুটবলের মাঠেই রেকর্ড করে থাকে, তারা এবার ফিফার ব়্যাংকিং-এ তাদের সর্বনিম্ন স্থানে নেমে রেকর্ড করে ফেলল৷

কারো সর্বনাশ, কারো পৌষমাস৷ আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই ভাঁটার সুযোগ নিয়ে মালি তাদের সর্বোচচ – তেইশতম স্থানে উঠে পড়েছে, যেমন উঠেছে বেলজিয়াম (১২), বসনিয়া (১৫) এবং আলবানিয়া (৩৮) তাদের সর্বোচ্চ স্থানে৷ তালিকার শীর্ষে আগের মতোই স্পেন, জার্মানি, আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া৷ তার পরেই আসছে নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, কলম্বিয়া, ইটালি, ইংল্যান্ড এবং ইকুয়েডর৷
ব্রাজিলের মতো গোটা এশিয়া মহাদেশেরও এবার হাঁড়ির হাল৷ এশিয়া থেকে সর্বোচ্চ ব়্যাংকিং হলো জাপানের, তারা ৩২তম স্থানে৷ নয়তো প্রথম ৫০-এর মধ্যে এশিয়া থেকে আর শুধু দক্ষিণ কোরিয়া আর অস্ট্রেলিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে৷ ও হ্যাঁ, ওসিয়ানিয়া মহাদেশের চ্যাম্পিয়ন তাহিতি, যারা কনফেড কাপে ব্রাজিলে খেলতে যাচ্ছে, তারাও গোটা তিনেক ঘর হারিয়ে ১৩৮-এ নেমে দাঁড়িয়েছে৷
তবে ফুটবল খেলতে নেমে ব্রাজিলের বদলে ফিফা ব়্যাংকিং-কে বেশি গুরুত্ব দিলে আগের মতোই ভুল হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা৷







ফিফা ব়্যাংকিং-এ পর্তুগাল উঠল পাঁচ নম্বরে

গত বৃহস্পতিবার ফিফা তার সর্বাধুনিক ব়্যাংকিং প্রকাশ করে৷ এ পর্তুগাল পাঁচ নম্বরে৷ তার মূল কারণ হলো সুইডেনের বিরুদ্ধে পর্তুগালের দু’টি প্লে-অফে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর মোট চারটি গোল৷ 

৬ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের ড্র হবে অক্টোবরের ব়্যাংকিং-এর ভিত্তিতে৷ ফিফা বিশ্বকাপের সিডিং বা বাছাই ঠিক করে রেখেছে অক্টোবরের ব়্যাংকিং-এর ভিত্তিতে, যা-তে প্লে-অফ দলগুলি কোনো অন্যায় সুবিধা না পায়৷ কাজেই আগামী ৬ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের ড্র-র উপর ফিফার নতুন ব়্যাংকিং'এর কোনো প্রভাব পড়বে না৷
তবুও, বিশ্বকাপের বছর যখন সামনে, তখন এই মুহূর্তে কোন দেশ ঠিক কোনখানে, সেটা জানতে ইচ্ছে করে বৈকি৷ স্পেন পূর্বাপর তালিকার শীর্ষে – এবং সেটা সাম্প্রতিক ফ্রেন্ডলিতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারা সত্ত্বেও৷ দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে জার্মানি, আর্জেন্টিনা এবং কলম্বিয়া৷ ষষ্ঠ স্থানে উরুগুয়ে৷ সপ্তম ইটালি৷ অষ্টম স্থানে সুইজারল্যান্ড, যারা এক মাস আগেও অষ্টম স্থানে ছিল৷ নবম স্থানে নেদারল্যান্ডস৷ দশম স্থানে ব্রাজিল৷

বেলজিয়াম ছয় ঘর পিছিয়ে এগারো নম্বরে – যদিও এক মাস আগের স্ট্যাটাসের কারণে তারা, সুইজারল্যান্ডের মতোই, বিশ্বকাপের প্রথম আটজন ‘সিড'-এর মধ্যে পড়েছে৷ নয়া ফিফা ব়্যাংকিং-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৩ থেকে ১৪ নম্বরে নেমেছে৷ মেক্সিকো প্লে-অফে নিউজিল্যান্ডকে নস্যাৎ করার পর আরো চারঘর উঠে বিশ নম্বরে দাঁড়িয়েছে৷
আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে আইভরি কোস্ট: তাদের ব়্যাংকিং হলো ১৭৷ এশিয়ান কনফেডারেশনের দলগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে ইরান: তারা চার ঘর উঠে এখন ৪৫-এ৷ সে তুলনায় বহুদিন ধরে এশীয় তালিকার শীর্ষে থাকা জাপান চার ঘর নেমে ৪৮-এ৷ ৫৮ নম্বর অস্ট্রেলিয়া হবে আগামী সপ্তাহে বিশ্বকাপের ড্র-তে ফিফা ব়্যাংকিং-এ নিম্নতম দেশ৷



এবার বিশ্বকাপে এই ব্রাজুকা বলটিই থাকবে সবার পায়ে

ব্রাজিল বিশ্বকাপের বল ব্রাজুকা বৃত্তান্ত

বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে বাকি মাত্র দশ দিন৷ প্রতিবারের মতো এবারো বিশ্বকাপের নতুন বল নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক, গবেষণা৷ খেলোয়াড়দের আশা, ‘ব্রাজুকা’ এবার ভাল খেলাই দেখাবে৷ তবে গতবারের অভিজ্ঞতার কারণে সংশয়ও পুরোপুরি কাটছে না৷


২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের বল ‘ফেভারনোভা' নাকি ছিল অনেক বেশি হালকা আর ‘বাউন্সি'৷ এর চার বছর পর জার্মানি বিশ্বকাপের বল ‘টিমগাইস্ট'- এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, সেটি নাকি অতিরিক্ত ‘পিছল'৷ আর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের বল ‘জাবুলানি' তো অনেক খেলোয়াড়কে রীতিমতো ভড়কে দিয়েছিল৷
ব্যাপক সমালোচনার পর এবার অনেকের মতামত নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই ব্রাজুকা তৈরি করেছে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আডিডাস৷ জার্মান এই কোম্পানির দাবি, ব্রাজুকাই হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত বল৷

নতুন বলের সঙ্গে খেলোয়াড়দের পরিচিত করতে গত ডিসেম্বরে ‘ব্রাজুকা' উন্মোচনের পরপরই বিশ্বকাপে থাকা সবকটি দেশে বলটি সরবরাহ করে আডিডাস৷ আর গত বৃহস্পতিবার বিশ্বের সামনে আনা হয় ফাইনাল ম্যাচের বলটি, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘ব্রাজুকা ফাইনাল রিও'৷
গত দুই বছরে জিনেদিন জিদান, লিওনেল মেসি, ইকার ক্যাসিয়াস, বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের মতো ছয়শ খেলোয়াড় ব্রাজুকা পরখ করে দেখেছেন৷ বায়ার্ন মিউনিখ, এসি মিলানের মতো দলের বিশেষজ্ঞরা এই বল নিয়ে মতামত দিয়েছেন৷ ব্রাজুকার মন বুঝতে নাম আর চেহারা বদলে খেলানো হয়েছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ আর একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও৷

এবারের বিশ্বকাপ বলের জন্য ব্রাজুকা নামটি ঘোষণা করা হয় ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে৷ তার আগে নাম নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটিরও আয়োজন করে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটি ও আডিডাস৷

ব্রাজুকা হলো ব্রাজিলের একটি চলতি শব্দ, যার মানে হলো ‘ব্রাজিলীয়'৷ এ বলের নকশা আর রঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দক্ষিণ অ্যামেরিকার বর্ণময় জীবন ও ফুটবল নিয়ে তাদের উত্তেজনার আবহ৷

মুশফিকুর রহিম





মোহাম্মদ মুশফিকুর রহিম (জন্ম: ১লা সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮) একজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেপ্টেম্বর ২০১১ থেকে তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। মূলত তিনি একজন উইকেটকীপার এবং লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান। ছোটখাটো গডনের এই সদা হাস্যোজ্জ্বল খেলোয়াড় টি স্ট্যাম্পের পেছনে বকবক করার জন্য বিখ্যাত।
২০০৫ এর ইংল্যান্ড ট্যুরে মুশফিক প্রথমবারের মত জাতীয় দলে সুযোগ পান। ইংল্যান্ডের মাটিতে এটাই ছিলো বাংলাদেশের প্রথম ট্যুর। শুরুর দিকে যদিও তাকে কেবল উইকেটকীপার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল,গা গরমের ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্স নির্বাচকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। ফলশ্রুতিতে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তিনি স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবেই দলে জায়গা করে নেন।

২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে মুশফিক বাংলাদেশ দলকে নেত্ত্ব দেন। অন্যান্যদের মধ্যে এই দলে ছিলেন ভবিষ্যতের আনর্জাতিক তারকা সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল। মুশফিকের নেতৃত্বে দলটি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে সমর্থ হয়।
২০০৬ এর জিম্বাবুয়ে ট্যুরে মুশফিক আবার জাতীয় দলে সুযোগ পান। এই ট্যুরে তার সাথে সাথে ফরহাদ রেজা ও সাকিব আলা হাসানেরও ওয়ানডে অভিষেক হয়। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মুশফিক তার প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেন এবং পরের বছর ওয়েস্ট-ইন্ডিজে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের জন্য খালেদ মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হন।
জুলাই, ২০০৭ এ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিক আবার দলে ডাক পান। এক ইনিংস ও ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশ পরাজিত হয় । মুশফিক, মোহাম্মদ আশরাফুলকে সঙ্গী করে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে রেকর্ড ১৯১ রান করেন। ৮০ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন মুশফিক।
২০০৯ এর জিম্বাবুয়ে ট্যুরে মুশফিক বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হন। তৎকালীন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ইনজুরড হওয়ায় সাকিব তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং পূর্বতন সহ-অধিনায়ক সাকিবের দায়িত্ব পান মুশফিক। ২০১০ এর ২১ জানুয়ারী ভারতের বিরুদ্ধে হোম সিরিজের প্রথম টেস্টের পঞ্চম দিনে মুশফিক তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। মাত্র ১১২ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি বাংলাদেশের দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক হন। ১১৩ রানের ব্যবধানে ভারত ম্যাচটি জিতে নেয় ।
ঐ বছরের ৮ নভেম্বর ওয়ানডেতে মুশফিক তার সেরা ইনিংসটি খেলেন। জাতীয় ক্রিকেট লীগের একটি ম্যাচে তিনি রাজশাহীর হয়ে ১১৪ বলে করেন ১২০ রান। ডিসেম্বর, ২০১০ এ মুশফিকের জায়গায় তামিম ইকবাল সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পান।
২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

শুক্রবার, ৩০ মে, ২০১৪

একটি গল্প

এই গল্পটা বলেছিলেন আব্রাহাম লিংকন।
আব্রাহাম লিংকন সবে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। গৃহযুদ্ধের পরে।
দলে দলে লোকে তাঁর কাছে এসে বলতে লাগল, ‘আমরা দেশের জন্য অনেক স্বার্থ ত্যাগ করেছি। পদ চাই। আমাদের মূল্যায়ন করুন।’
তখন আব্রাহাম লিংকন এই গল্পটা করেন।
এক রাজা বেরোবেন শিকারে। তিনি মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আজকের আবহাওয়া কেমন? পথে ঝড়বৃষ্টি হবে না তো?’
মন্ত্রী বললেন, ‘না না, আজ ঝড়বৃষ্টি হবে না। আবহাওয়া চমৎকার।’
কিছুদূর যাওয়ার পর এক ধোপার সঙ্গে দেখা। ধোপা বললেন, ‘রাজামশাই, বেশ তো চলেছেন, কিন্তু সামনে তো ঝড়বৃষ্টি হবে।’
রাজা এগোলেন। ঝড়বৃষ্টির কবলে পড়লেন।
তখন তিনি ওই মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে সেই পদে বসালেন ধোপাকে।
ধোপা বললেন, ‘রাজামশাই, যখন ঝড়বৃষ্টি হয়, তখন আমার গাধার কান নড়ে। গাধার কান নড়া দেখে আমি বুঝেছিলাম, আজ বৃষ্টি হবে।’
রাজা তখন ধোপাকে বরখাস্ত করে গাধাটাকে মন্ত্রী বানালেন।
তখন হলো আসল বিপদ। রাজার সভাসদেরা দলে দলে এসে রাজাকে ঘিরে ধরলেন, ‘আমরাও তো গাধা। আমাদেরও মন্ত্রী বানান।’
আব্রাহাম লিংকন কেন এই গল্পটা বলেছিলেন, আমার জানা নেই, কিন্তু একটা কিছু অনুমান তো করে নিতেই পারি। এখন, এই মুহূর্তে কেন এই গল্পটাই মনে পড়ে গেল, তারও কোনো ব্যাখ্যা খঁুজে পাচ্ছি না।
একটা সূত্র খঁুজে পাওয়া যাচ্ছে অবশ্য। ‘জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের সরকার’—সেই বিখ্যাত গেটিসবার্গ ভাষণ দেওয়া আব্রাহাম লিংকনের কথা এত বছর পরেও আমাদের জন্য আলোর দিশা দেখাতে পারে বটে।
লিংকনের গল্প থেকে অন্তত এই উপদেশটা পাওয়া যায়, কোনো মন্ত্রী কাজে না লাগলে তাঁকে বরখাস্ত করো।
২৯ মে প্রথম আলোয় হাসান ফেরদৌসের কলাম ছাপা হয়েছে, ‘সরকার, তুমি কার?’ ওই লেখায় তিনি আমাদের শুনিয়েছেন ম্যাসাচুসেটস থেকে নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের গল্প, শুনিয়েছেন উদারনৈতিক এই সিনেটরের লেখা আ ফাইটিং চান্স বইয়ের কথা। এলিজাবেথ ওয়ারেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকও৷ বলেছেন, ‘সরকার হচ্ছে ফুলবাগানের মতো, সময়মতো যত্ন না নিলে তাতে আগাছা জন্মে, পরগাছা আশ্রয় নেয়।’
হাসান ফেরদৌসের লেখা পড়ে বুঝলাম, আমাদের দেশে সরকারের অবস্থা তেমনই হয়েছে; খুনি, দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজেরা সরকার নামের বটবৃেক্ষর গায়ে পরগাছার মতো জন্ম নিয়েছে। এ থেকে মুক্তির উপায় খঁুজতে হাসান ফেরদৌস এলিজাবেথ ওয়ারেনের পরামর্শেরই শরণাপন্ন হয়েছেন৷ ওয়ারেন বলছেন, সমাজ ও সরকারকে বদলাতে ক্রমাগতভাবে লড়ে যেতে হয়, সেই লড়াই দীর্ঘ, বন্ধুর; তবে শেষ পর্যন্ত বিজয় আসেও।
অগ্রজপ্রতিম লেখক হাসান ফেরদৌসের সঙ্গে দ্বিমত করছি না, তবে আমি আরও কাছের উদাহরণ দিতে চাই। একটা সরকারের বা এই সরকারের কী করা উচিত, তার একটা অপরূপ ব্যবস্থাপত্র তৈরি ও উপস্থাপন করা আছে। সেটার ৫০ ভাগও যদি মান্য করা হয়, বাংলাদেশ সোনার বাংলায় পরিণত হবে। এই ব্যবস্থাপত্রটা দিয়েছিলেন, না, আর কেউ নন, স্বয়ং শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর তাঁর নেতৃত্বে মহাজোট তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করার পর তিনি একটা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সে সময়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ৩১ ডিসেম্বর ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে-পরেও শেখ হাসিনার বিভিন্ন ভাষণে এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে এসব সুবচন উচ্চারিত হয়েছিল।
শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, আমরা সংঘাতের রাজনীতি বর্জন করতে চাই, দেশে একটা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি উপহার দিতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘এ কথা সত্য যে আমাদের অনেকেই বিএনপি-জামায়াতের প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়েছি, সর্বস্ব হারিয়েছি, কিন্তু যেহেতু আমরা জয়লাভ করেছি, আমাদের ক্ষমা করে দিতে হবে এবং সবাই মিলে একসঙ্গে দেশের ভালোর জন্য কাজ করে যেতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই বিশাল জয় তখনই সার্থক হবে, যখন আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে এবং কষ্টার্জিত স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়িত করা যাবে।’
‘আমরা বিরোধী দলকে তাদের আসনসংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করব না। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল সরকারেরই একটা অংশ, তাদের ইতিবাচক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংসদকে কার্যকর করা যাবে।’ এক বিদেশি সাংবাদিক সাংসদদের দুর্নীতি বিষয়ে প্রশ্ন করলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, কারণ এটা আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আমি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফল আমাকে ঘটাতেই হবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা আমি চাই।’
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর নতুন সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে একটা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ডিজিটাল সোনার বাংলা গড়ে তুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে নিয়োগ-পদোন্নতির মাপকাঠি হবে যোগ্যতা, দলীয় পরিচয় বা আনুগত্য নয়।’এর আগে-পরে তিনি বহুবার বলেছেন, ‘অপরাধী যে দলেরই হোক না, অপরাধী হলো অপরাধী, এটাই একমাত্র বিবেচ্য, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও এসব কথা সুন্দরভাবে বলা আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। সব ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হবে। মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা হবে। একজন ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসনে যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও মেধা হবে নিয়োগ ও পদোন্নতির ভিত্তি। স্থানীয় সরকারগুলোকে কার্যকর করা হবে। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদগুলোকে শক্তিশালী করা হবে।
এখন আমাদের সবার উচিত, ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া শেখ হাসিনার ভাষণটির কপি পকেটে রেখে দেওয়া ও সকাল-সন্ধ্যা একবার করে পড়ে নেওয়া। অপরাধীর কোনো দল নেই। সে অপরাধী, এটাই তার একমাত্র পরিচয়। এই সূত্র যদি আমরা মেনে চলতাম, আজ কোনো অপরাধীই কি ছাড়া পেত? তাহলে কি দেশ খুনখারাবি, গুম-অপহরণের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারত?
অল পাওয়ার টেন্ডস টু করাপ্ট অ্যান্ড অ্যাবসল্যুট পাওয়ার করাপ্টস অ্যাবসল্যুটলি। সব ক্ষমতাই দুর্নীতিগ্রস্ত করতে চায়, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত করে নিরঙ্কুশভাবে। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ লর্ড অ্যাকটন (১৮৩৪-১৯০২) এই কথা বলেছিলেন। অ্যাকটন ইনস্টিটিউটের প্রকাশনায় বেন মরিল নামের একজন লেখক সহজ ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। ‘ক্ষমতা যিনি পান, তাঁর কিন্তু মানুষের খারাপ করার ইচ্ছা থাকে না। তিনি আসলে ভালোই করতে চান। এটা তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু মানুষ তো আসলে বোঝে না, ভালো কী। কাজেই এটা তাঁর দায়িত্ব মানুষকে তাঁর ভালোটা করতে সাহায্য করা। মানুষ ভালো বোঝে না, আমি বুঝি, আমার দায়িত্ব মানুষের ভালো করা৷ কাজেই মানুষের মঙ্গলের জন্য কল্যাণের জন্য আমি একচ্ছত্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করি। সেটার প্রয়োগ করি।’ এখানেই শুরু হয় বিপদটা।
বেন মরিল বলেছেন, ‘তখন এমন আইন প্রণয়ন করতে হয়, প্রয়োগ করতে হয়, যাতে মানুষের ভালো করার দায়িত্বটা বাধাহীনভাবে পালন করা যায়। যাদের ভালো করার জন্য এটা করা হচ্ছে, তাদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়। আর তখন চারপাশে এমন বন্ধু ও সহকর্মী এসে জোটে, যারা সারাক্ষণ তার প্রশংসা করে, আর নিজেরাও অন্যদের দমন করার মধ্যেই আনন্দ খঁুজে পায়। আর এসব সভাসদ পাত্রমিত্র অমাত্যকে অন্যায়ভাবে কাজ দেওয়া, ব্যবসা দেওয়া, লাভ দেওয়ার ঘটনা ঘটতেই থাকে। দীর্ঘদিন ধরে যিনি ক্ষমতায় আছেন, তিনি মনে করেন, ক্ষমতাই জ্ঞান। জনগণ তাঁকে নির্বাচিত করেছেন, এটা কেবল তাঁকে ক্ষমতা দেয়নি, জ্ঞানও দিয়েছে।’
আস্তে আস্তে সবচেয়ে ক্ষমতাবানই সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিতে পরিণত হন। তাঁর আশপাশে সুবিধাভোগী পরামর্শকেরা তাঁর এই ধারণার গোড়ায় নিত্য জল দিতে থাকেন।
তিনি আস্তে আস্তে ভুলে যান, কোনটা ক্ষমতা আর কোনটা দুর্নীতি। এ দুটোর মধ্যে তিনি আর পার্থক্য করতে পারেন না।
আব্রাহাম লিংকন দিয়ে শুরু করেছিলাম। তাঁকে দিয়েই শেষ করা উচিত। তাঁর একটা উক্তি: আমার প্রবল ভয় তোমার বিফলতা নিয়ে নয়, আমার
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো, সেই ব্যর্থতা নিয়েও তুমি সন্তুষ্ট কি না।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

সোমবার, ২৬ মে, ২০১৪





জাদু সম্রাট প্রতুল চন্দ্র সরকার বা পিসি সরকারের তৃতীয় ছেলে এই পিসি সরকার জুনিয়র বারাসত আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন । তিনি বারাসতের বিজেপি প্রার্থী । ব্যক্তিগত ৩ হাজার টাকার বন্ডে জামিন পেলেন বিজেপির জাদুকর প্রার্থী। তার বিরুদ্ধে ৫০৯ ও ৩৫৪ এ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকালই পিসি সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে বারাসত থানায় এফআইআর দায়ের হয়। বারাসতে ভোটপ্রচারে বেরিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বারাসত কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অশালীন মন্তব্য করেছিলেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়। জবাব চেয়ে পাঠায় কমিশন। কিন্তু পি সি সরকার জুনিয়রের নোটিশের উত্তর সন্তোষজনক নয় বলে জানান জেলাশাসক।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন বোলিং কোচ হতে যাচ্ছেন হিথ স্ট্রিক। 

 
 









আজ সোমবার বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, জিম্বাবুয়ের সাবেক এই অধিনায়ক ও ফাস্ট বোলারের সঙ্গে বিসিবি দুই বছরের চুক্তি করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে মোট ৪৫০ দিন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলারদের সঙ্গে মি: স্ট্রিক কাজ করবেন বলে জানিয়েছে বিসিবি।
জুনের প্রথম সপ্তাহে তিনি বাংলাদেশে আসবেন এবং নতুন কোচ হাতুরাসিঙ্গের সাথে কাজ করবেন।
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার খেলেছেন ৬৫টি টেস্ট ও ১৮৯টি ওয়ানডে।
টেস্টে ২১৬ এবং ওয়ানডেতে ২৩৯টি উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও তিনি।
২০০৯ সালে স্টিক জিম্বাবুয়ের বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আগামী মাসে ভারতের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় তিন ওয়ানডে সিরিজের আগেই হিথ স্ট্রিক বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ শপথ নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি


modi sharif
পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফও শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
দিল্লিতে আজ সন্ধ্যায় ভারতের চতুর্দশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি।
নজিরবিহীন এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার অতিথি থাকছেন, এর মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানেরা রয়েছেন।
ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন স্পীকার শিরিন শারমীন চৌধুরী।
এদিকে পাকিস্তান ও শ্রীলংকা তাদের শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু ভারতীয় বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে।
বিবিসি বাংলার দিল্লি সংবাদদাতা শুভোজ্যোতি ঘোষ জানাচ্ছেন রোববার রাতে নরেন্দ্র মোদির টিমের পক্ষ থেকে একটি সরকারী বিবৃতি জারি করা হয়েছে, যাতে নতুন মন্ত্রীসভার আকার অত্যন্ত ছোট হবে বলে জানানো হয়েছে।
এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রয়োজনে কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে একত্র করে একটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা হবে জানানো হয়েছে।
বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে ছোট সরকার, কিন্তু সুশাসন নিশ্চিতে বেশি জোর দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।
মন্ত্রীসভার সদস্যরা সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শপথ নেবেন বলে জানাচ্ছেন দিল্লি সংবাদদাতা শুভোজ্যোতি ঘোষ।
১৬ই মে নির্বাচনের ফল আসার পর থেকে গত দশদিনে মন্ত্রীসভার সদস্যদের চূড়ান্ত করতে মি. মোদি দলের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।