ব্রাজিল বিশ্বকাপের বল ব্রাজুকা বৃত্তান্ত
বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে বাকি মাত্র দশ দিন৷ প্রতিবারের মতো এবারো বিশ্বকাপের
নতুন বল নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক, গবেষণা৷ খেলোয়াড়দের আশা, ‘ব্রাজুকা’ এবার
ভাল খেলাই দেখাবে৷ তবে গতবারের অভিজ্ঞতার কারণে সংশয়ও পুরোপুরি কাটছে না৷
২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের বল ‘ফেভারনোভা' নাকি ছিল অনেক বেশি হালকা আর ‘বাউন্সি'৷ এর চার বছর পর জার্মানি বিশ্বকাপের বল ‘টিমগাইস্ট'- এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, সেটি নাকি অতিরিক্ত ‘পিছল'৷ আর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের বল ‘জাবুলানি' তো অনেক খেলোয়াড়কে রীতিমতো ভড়কে দিয়েছিল৷
ব্যাপক সমালোচনার পর এবার অনেকের মতামত নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই ব্রাজুকা তৈরি করেছে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আডিডাস৷ জার্মান এই কোম্পানির দাবি, ব্রাজুকাই হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত বল৷
নতুন বলের সঙ্গে খেলোয়াড়দের পরিচিত করতে গত ডিসেম্বরে ‘ব্রাজুকা' উন্মোচনের পরপরই বিশ্বকাপে থাকা সবকটি দেশে বলটি সরবরাহ করে আডিডাস৷ আর গত বৃহস্পতিবার বিশ্বের সামনে আনা হয় ফাইনাল ম্যাচের বলটি, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘ব্রাজুকা ফাইনাল রিও'৷
গত দুই বছরে জিনেদিন জিদান, লিওনেল মেসি, ইকার ক্যাসিয়াস, বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের মতো ছয়শ খেলোয়াড় ব্রাজুকা পরখ করে দেখেছেন৷ বায়ার্ন মিউনিখ, এসি মিলানের মতো দলের বিশেষজ্ঞরা এই বল নিয়ে মতামত দিয়েছেন৷ ব্রাজুকার মন বুঝতে নাম আর চেহারা বদলে খেলানো হয়েছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ আর একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও৷
এবারের বিশ্বকাপ বলের জন্য ব্রাজুকা নামটি ঘোষণা করা হয় ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে৷ তার আগে নাম নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটিরও আয়োজন করে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটি ও আডিডাস৷
ব্রাজুকা হলো ব্রাজিলের একটি চলতি শব্দ, যার মানে হলো ‘ব্রাজিলীয়'৷ এ বলের নকশা আর রঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দক্ষিণ অ্যামেরিকার বর্ণময় জীবন ও ফুটবল নিয়ে তাদের উত্তেজনার আবহ৷

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন